“আমি বেঁচে আছি, সেই বেঁচে থাকাটাকেই দুর্বিষহ করে তুলেছে…” ৮৯ বছর বয়সেও গুজবের শিকার সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়! কিংবদন্তির মৃ’ত্যুর ভুয়ো খবর নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়! ক্ষোভে ফেটে পড়লেন অভিনেত্রী, পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদে সরব অপরাজিতা!

নির্মম গুজব আর সোশ্যাল মিডিয়ার অব্যক্ত কদর্যতা এক নতুন মাত্রা পেয়েছে গত কয়েকদিনে। ৯০ বছর বয়সেও যিনি প্রাণশক্তিতে ভরপুর, সেই কিংবদন্তি অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় যা রটেছে, তা শুধু হতাশাজনক নয়, নিঃসন্দেহে অবমাননাকরও। কিছু দিন আগে, অভিনেত্রীর অসুস্থতা ও মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে নেটপাড়ায় তোলপাড় শুরু হয়। এই ভুয়ো খবর নিয়ে যেমন শোরগোল হয়েছে, তেমনই তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় নিজেও। ফেসবুক এবং অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো এসব গুজব তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে, জানিয়েছেন তিনি।

এই পরিস্থিতিতে, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় তার জীবনের বাস্তবতা তুলে ধরে বলেন, “আমি বেঁচে আছি,” এবং আরও বলেন যে সোশ্যাল মিডিয়ার এই জঞ্জালের কারণে তার জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। অভিনেত্রী খোলামেলা ভাষায় বলেছেন, “ফেসবুকের মতো জায়গায় এমন খবর ছড়িয়ে কী আনন্দ পায় সবাই? আমি নিজে যখন ফোন তুলি, তখন আমায় ফোন করে জানতে চাওয়া হয়—আমি বেঁচে আছি কি না।” এ থেকে বুঝে নেওয়া যায়, কীভাবে এই ধরনের গুজব তার মানসিক শান্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সাবিত্রী আরও জানান, এসব ফোন কল আসতেই তার ফোন বন্ধ করে রাখতে হয়েছিল।

তিনি স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার যে ‘উন্নতি’ নিয়ে সবাই কথা বলে, তা তাকে একেবারেই আগ্রহী করেনি। অভিনেত্রী জানাচ্ছেন, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় কখনও সময় কাটান না। “আমি ফেসবুক দেখি না। সেখানে কী হয়, জানি না। তবে যেসব মানুষ এসব রটনা করছে, তাদের মনোভাব কখনও বুঝি না,” বলেন সাবিত্রী। তার মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নানান ভুয়ো তথ্যের কারণে সাধারণ মানুষও নানা ধরনের ভুল ধারণায় ভুগছে। তবে, বয়সের এই প্রাপ্ত বয়স্ক অবস্থায় এসব নিয়ে আর চিন্তা করতে চান না তিনি।

অপরাজিতা ঘোষ দাস, যিনি সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের এই অসন্তোষের প্রতিবেদনটি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন, তার কণ্ঠেও ক্ষোভ ঝরেছে। তিনি লিখেছেন, “সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় একদম ঠিক বলেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া এখন এক ধরনের জঞ্জালে পরিণত হয়েছে। মানুষ যেন মরার খবরের জন্য অপেক্ষা করছে।” অপরাজিতা আরও বলেন, এমন পরিস্থিতিতে তারকাদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন না করে, কেবল ভিউ ও ক্লিকবেটের জন্য তাদের সম্পর্কে ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে, যা সামাজিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।

আরও পড়ুন: “বাবা অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন…মানুষকে সাহায্য করেও প্রচার করতেন না, সিস্টেমের বাস্তবতাই ওনাকে প্রভাবিত করেছিল” “মাখন লাগাতে পারি না, তাই কাজও নেই” ইন্ডাস্ট্রি থেকে বঞ্চিত, তাপস পালের মৃ’ত্যুর ছয় বছর পর বি’স্ফোরক কন্যা সোহিনী পাল! বাবার জীবনে রাজনীতির প্রভাব নিয়ে কোন তথ্য আনলেন সামনে?

এদিকে, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের মতো জীবন্ত কিংবদন্তির এই মানসিক হেনস্থা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে মনে করছেন সমাজের সচেতন নাগরিকেরা। বিশেষ করে, ইন্টারনেটের ‘ক্লিকবেট’ প্রবণতা, যেখানে কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে শুধু জনপ্রিয়তার জন্য কোনো একজন শিল্পীর সম্পর্কে গুজব ছড়ানো হয়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। নেটিজেনদের একাংশ দাবি করছে, এমন আচরণ শুধু অসভ্যতা নয়, বরং এটি একটি অপরাধও বটে।

You cannot copy content of this page